রায়হানের মা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আমরণ অনশনে


সিলেট, ২৫ অক্টোবর- যে ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজারের সেই ফাঁড়িতেই আমরণ অনশন শুরু করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।

রোববার সকাল ১১টা থেকে রায়হানের মা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আমরণ অনশন শুরু করেন। তার সঙ্গে রয়েছে রায়হানের চাচা-চাচি, মামা, খালা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনসহ আখালিয়া এলাকাবাসী।

রায়হান আহমদের মা বলেন, এই ফাঁড়িতেই আমার ছেলেকে পুলিশ হত্যা করেছে। সেখানেই আমরণ অনশন শুরু করেছি। আকবর গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।

সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে করে বলেন, রায়হান নিহতের ঘটনায় বরখাস্তকৃতরা কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। নিহতের ১৩ দিন হলেও কেন ঘটনার মূল হোতা এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এসআই আকবরসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে বিকালে পরিবারের বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। পরদিন রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আল মামুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট মহানগর পুলিশ।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুন রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনমুখর হয়ে পড়ে সিলেট। সিলেট মহানগর পুলিশকে নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই সমালোচনার মুখে মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। আর এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া ১২ অক্টোবর থেকে পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:  রায়হানের উপর চালানো ভয়ঙ্কর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন ৩ পুলিশ

তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পায় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি জানতে পারে ১১ অক্টোবর ভোররাত ৩টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সুস্থ অবস্থায় রায়হান আহমদকে আনা হয় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রায়হানকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

রায়হান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।

সূত্র: সমকাল





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *